ভারতে HMPV সম্পর্কিত তথ্য
ভারতে এর প্রভাব:
HMPV (Human Metapneumovirus) ভারতে একটি স্বীকৃত শ্বাসযন্ত্র সংক্রমণকারী ভাইরাস।
এটি মূলত শিশু ও নবজাতকদের মধ্যে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের জন্য দায়ী।
দীর্ঘদিন ধরে এটি উপস্থিত থাকলেও কিছু সময়ে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পায়, যা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি মৃদু অসুস্থতা সৃষ্টি করে।
যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এটি গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
সংক্রমণের সময়:
অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রজনিত ভাইরাসের মতো, HMPV শীতকালে বেশি সক্রিয় থাকে।
তাই এই সময় সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পেতে পারে।
প্রভাবিত বয়স:
HMPV সব বয়সের মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে।
তবে নবজাতক, ছোট শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে।
উপসর্গ:
সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে:
জ্বর
কাশি
নাক বন্ধ বা সর্দি
গলা ব্যথা
শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি
শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
ক্লান্তি
গুরুতর ক্ষেত্রে এটি ব্রংকাইটিস বা নিউমোনিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
নির্ণয় (ডায়াগনোসিস):
ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়, যেমন:
নাসারন্ধ্র বা গলার সোয়াব নিয়ে RT-PCR টেস্ট।
চিকিৎসা:
HMPV-এর নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই।
চিকিৎসা মূলত উপসর্গ অনুযায়ী সহায়ক পরিচর্যার উপর নির্ভর করে:
জ্বর নিয়ন্ত্রণ
শরীরে পর্যাপ্ত জলীয় পদার্থ সরবরাহ করা
শ্বাসযন্ত্রের উপসর্গ উপশম করা
গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালের চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর নয়।
প্রতিরোধ:
সংক্রমণ প্রতিরোধে নিম্নলিখিত সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত:
বারবার হাত ধোয়া
কাশি ও হাঁচি দেওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখা
অসুস্থ ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়ান
টিকা:
বর্তমানে HMPV-এর জন্য কোনো অনুমোদিত বা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত টিকা নেই।
মূল বিষয়:
HMPV একটি সাধারণ শ্বাসযন্ত্রজনিত ভাইরাস।
বেশিরভাগ সংক্রমণ মৃদু হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী গুরুতর অসুস্থ হতে
পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
✨💕✨💕✨💕
HMPV সংক্রমণের সম্ভাব্য জটিলতা
বেশিরভাগ HMPV সংক্রমণ সাধারণ সর্দি-কাশির মতো মৃদু উপসর্গ সৃষ্টি করে, কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে। নিচে সম্ভাব্য জটিলতাগুলো দেওয়া হলো:
১. নিম্ন শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ:
নিউমোনিয়া: HMPV ফুসফুসে প্রদাহ ও তরল জমাট বাঁধার কারণ হতে পারে, যার ফলে নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে। এটি একটি গুরুতর অবস্থা, যা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
ব্রংকিওলাইটিস: বিশেষ করে নবজাতক ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে, HMPV ফুসফুসের ছোট বায়ুপথগুলোর (ব্রংকিওল) প্রদাহ ঘটিয়ে ব্রংকিওলাইটিস সৃষ্টি করতে পারে, যা শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির মতো উপসর্গ সৃষ্টি করে।
ব্রংকাইটিস: এটি ব্রংকিয়াল নালীগুলোর প্রদাহ, যা কাশির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
২. বিদ্যমান রোগের অবনতি:
যদি কেউ আগে থেকেই অ্যাজমা বা ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD)-এ আক্রান্ত থাকে, তাহলে HMPV সংক্রমণ এই রোগগুলোর উপসর্গ বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং বাড়তি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
৩. সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ:
HMPV রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে, ফলে ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া বা অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৪. একিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিন্ড্রোম (ARDS):
খুব গুরুতর ক্ষেত্রে, HMPV ARDS সৃষ্টি করতে পারে, যা জীবন-সংকটজনিত একটি ফুসফুসজনিত অবস্থা।
৫. হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা:
উপরের জটিলতাগুলোর কারণে, বিশেষ করে নবজাতক, বয়স্ক ব্যক্তি ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
ঝুঁকির কারণ:
HMPV সংক্রমণের কারণে জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে যদি:
রোগী নবজাতক বা ছোট শিশু হয়।
বয়স্ক ব্যক্তি হয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়।
আগে থেকেই শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগ (যেমন: অ্যাজমা, COPD) থেকে থাকে।
যদি কারও তীব্র শ্বাসকষ্ট, অবিরত হাঁপানি বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে
দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
✨💕✨💕✨💕
বর্তমানে মেট্রোপলিটন, শহর, নগর ও গ্রাম অঞ্চলে Human Metapneumovirus (HMPV) সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করার জন্য নির্দিষ্ট ডেটার অভাব রয়েছে।
বর্তমান গবেষণাগুলো মূলত শহুরে হাসপাতালভিত্তিক তথ্যের উপর নির্ভরশীল। উদাহরণস্বরূপ:
AIIMS, দিল্লি-তে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ১২% যারা তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিল, তাদের মধ্যে HMPV শনাক্ত করা হয়েছিল। (সূত্র)
পুদুচেরির একটি তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতাল-এ পরিচালিত এক গবেষণায় ইনফ্লুয়েঞ্জা-জাতীয় অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৫%-এ HMPV পাওয়া গেছে। (সূত্র)
যেহেতু বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের উপর বিস্তৃত কোনো সম্প্রদায়ভিত্তিক নজরদারি তথ্য নেই, তাই মেট্রোপলিটন, শহর, নগর ও গ্রামীণ এলাকাগুলোর মধ্যে HMPV সংক্রমণের প্রকৃত হার নির্ধারণ করা কঠিন।
এই ভাইরাসের প্রকৃত মহামারীবিদ্যা (epidemiology) বুঝতে হলে বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।
🪔🪔🪔🪔🪔🪔
HMPV সংক্রমণকারী ও নির্ণয়যোগ্য অংশসমূহ
১. সংক্রমণকারী (Infecting) অংশ:
HMPV মূলত শ্বাসযন্ত্রের নীচের অংশ সংক্রমিত করে এবং এর সংক্রমণের জন্য নিচের ভাইরাল উপাদানগুলি দায়ী:
গ্লাইকোপ্রোটিন (G প্রোটিন):
ভাইরাসটি শ্বাসনালীর এপিথেলিয়াল কোষের সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করে।
সংক্রমণের প্রাথমিক ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফিউশন প্রোটিন (F প্রোটিন):
ভাইরাসটি হোস্ট কোষের সাথে মিশে কোষের মধ্যে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।
ভাইরাসটি এক কোষ থেকে অন্য কোষে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে।
RNA জিনোম:
ভাইরাসের জিনগত উপাদান, যা হোস্ট কোষের ভেতরে নতুন ভাইরাস উৎপন্ন করতে সাহায্য করে।
২. নির্ণয়যোগ্য (Diagnosed) অংশ:
HMPV শনাক্ত করতে শ্বাসনালীর নিঃসরণ (respiratory secretions) পরীক্ষা করা হয়। মূলত নিচের অংশগুলোর নমুনা সংগ্রহ করা হয়:
নাক বা গলার সোয়াব:
নাসোফ্যারিংক্স বা ওরোফ্যারিংক্স (উপরের শ্বাসতন্ত্র) থেকে নমুনা নেওয়া হয়।
ভাইরাসের RNA বা প্রোটিন (অ্যান্টিজেন) শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
ফুসফুস থেকে নেওয়া নিঃসরণ (যেমন: Bronchoalveolar Lavage):
গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে ফুসফুসের ভেতর থেকে তরল নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
হাসপাতালের রোগীদের জন্য এটি বেশি কার্যকর।
পরীক্ষার পদ্ধতি:
RT-PCR (Reverse Transcription Polymerase Chain Reaction): ভাইরাসের RNA শনাক্ত করে।
ইমিউনোফ্লুরোসেন্স ও ELISA: ভাইরাসের অ্যান্টিজেন শনাক্ত করে।
সারাংশ:
সংক্রমণকারী অংশ: ভাইরাসটি G ও F প্রোটিন ব্যবহার করে শ্বাসনালীর এপিথেলিয়াল কোষে সংক্রমণ ঘটায়।
নির্ণয়যোগ্য অংশ: ভাইরাসটি নাসাল/গলার সোয়াব বা নিম্ন শ্বাসনালীর নমুনা থেকে RT-PCR বা অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে সনাক্ত করা হয়।
Dr Rajatsubhra Mukhopadhyay
Acknowledgement: AI (Google Gemini and Chat GPT 4)